top of page
  • amc

বিশ্রামদিন অথবা সব্বাথ দিন কবে? | Which day of the week is the Sabbath Day? | Bengali Sermon | amc

#প্রশ্ন:

কোন্ দিনটা সব্বাথ দিন [বিশ্রাম বার], শনিবার না রবিবার? খ্রীষ্টিয়ানদের কি সব্বাথ দিন পালন করা বাধ্যতামূলক?



#উত্তর:

[সত্য খুঁজতে গেলে, সঠিক সব্বাথ দিন হলো - শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত]


প্রিয়পাঠক, মনে রাখবেন পরিত্রাণের সাথে সব্বাথ দিন পালনের কোন সম্পর্ক নেই! কেননা পরিত্রাণ যীশু খ্রীষ্টের বহুমূল্য রক্তের [যীশুর মৃত্যু ও পুনুরুন্থান] প্রতি বিশ্বাসের দ্বারা আমরা ইতি মধ্যে পরিত্রাণপ্রাপ্ত হয়েছি!


প্রায়শই ব্যবস্থা পন্থিরা এই দাবী করে যে, ‘ঈশ্বর এদন বাগানে সব্বাথ দিনটা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন’, কারণ যাত্রা পুস্তক ২০:১১ পদ অনুসারে সৃষ্টির সাথে সাব্বাথের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও ঈশ্বর সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন (আদি পুস্তক ২:৩), যা ভবিষ্যতের জন্য সব্বাথ আইনের ছায়া প্রতিফলিত, তবুও মিসর থেকে ইস্রায়েল সন্তানদের প্রস্থানের আগে সব্বাথ সম্পর্কে বাইবেলে কোন তথ্য-প্রমাণ নাই। আদম থেকে মোশি পর্যন্ত সব্বাথ পালন করা হয়েছে এমন কিছু শাস্ত্রে লেখা নাই।


ঈশ্বরের বাক্য সুস্পষ্টভাবে বলেছে যে, সব্বাথ পালন হচ্ছে ঈশ্বরের সাথে ইস্রায়েলীয়দের বিশেষ চিহ্ন:


“একটা স্থায়ী ব্যবস্থা হিসাবে এই বিশ্রামবার (সব্বাথ) ইস্রায়েলীয়দের বংশের পর বংশ ধরে পালন করতে হবে। এই দিনটা আমার ও ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে চিরকালের জন্য একটা চিহ্ন হয়ে থাকবে, কারণ আমি ছয় দিনের মধ্যে মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছি এবং সপ্তম দিনে আমি কোন কাজ করি নি” (যাত্রাপুস্তক ৩১:১৬-১৭)।


দ্বিতীয় বিবরণ ৫ অধ্যায়ে মোশি ইস্রায়েলীয়দের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পুনরায় দশ আজ্ঞা তুলে ধরেছিলেন। এখানে, ১২-১৪ পদে সাব্বাথ পালনের বিষয়ে আদেশ দেবার পরে ইস্রায়েল জাতির কাছে তিনি সাব্বাথ পালনের কারণ উল্লেখ করেছেন:


“মনে রেখো, তোমরাও মিসর দেশে দাসই ছিলে এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর কঠোর এবং শক্তিশালী হাত বাড়িয়ে সেখান থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন। সেইজন্যই তিনি বিশ্রামবার পালন করবার আদেশ তোমাদের দিয়েছেন” (দ্বিতীয় বিবরণ ৫:১৫)।


ইস্রায়েলীয়েরা তাঁর সৃষ্টির কথা মনে রাখবে সেই উদ্দেশ্যে তিনি সাব্বাথ বা বিশ্রামবার তাদের দেন নাই, কিন্তু তারা যেন তাদের মিসরের ক্রীতদাসের জীবন ও সদাপ্রভুর দ্বারা মুক্তি স্মরণ করে সেজন্যই দিয়েছিলেন। সাব্বাথের প্রয়োজনীয় দিক লক্ষ্য করতে হবে: একজন ব্যক্তি সাব্বাথ আইনের অধীনে সেইদিন বাড়ী থেকে বের হতে পারবে না (যাত্রা পুস্তক ১৬:২৯), আগুন জ্বালাতে পারবে না (যাত্রা পুস্তক ৩৫:৩) এবং কাউকেই কাজে ব্যবহার করতে পারবে না (দ্বিতীয় বিবরণ ৫:১৪)। একজন ব্যক্তি সাব্বাথ আইন ভাংগলে তার শাস্তি ছিল মৃত্যু (যাত্রা পুস্তক ৩১:১৫; গণনা পুস্তক ১৫:৩২-৩৫)।


নতুন নিয়ম পরীক্ষা করে আমরা চারটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখতে পাই:


১। খ্রীষ্ট পুনরুত্থানের পরে দৈহিকভাবে যতবারই দেখা দিয়েছেন, সেই দিন ‘সপ্তার প্রথম দিন’ বলা হয়েছে (মথি ২৮:১, ৯,,১০; মার্ক ১৬:৯; লূক ২৪:১, ১৩, ১৫; যোহন ২০:১৯, ২৬)।


২। যিহূদীদের কাছে সুখবর প্রচারের উদ্দেশ্যে, প্রেরিত থেকে প্রকাশিত বাক্যে একবার মাত্র সাব্বাথ শব্দটা বলা হয়েছে এবং তাও শুধুমাত্র সমাজঘরে কথা বলার প্রেক্ষিতে (প্রেরিত ১৩-১৮ অধ্যায়)। পৌল লিখেছেন, “যিহূদীদের জয় করবার জন্য আমি যিহূদীদের কাছে যিহূদীদের মত হয়েছি” (১ করিন্থীয় ৯:২০)। তিনি পবিত্র লোকদের কাছে শিক্ষা দিতে এবং সহভাগিতা রক্ষা করার জন্য যিহূদী সমাজঘরে যান নাই, কিন্তু হারানো সন্তানদের দোষী করে তাদের উদ্ধার করতেই গিয়েছেন।


৩। একবার যখন পৌল বলেছেন, “এখন থেকে আমি অযিহূদীদের কাছে যাব” (প্রেরিত ১৮:৬), কিন্তু সাব্বাথ কখনই আর উল্লেখ করা হয় নাই, এবং ৪) সাব্বাথ দিন সম্পর্কে সহগামীদের পরামর্শ দেবার বদলে, নতুন নিয়ম ঠিক উল্টো বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয় (উপরে